Global South must build its own AI capabilities, not just consume technology: Brazil Minister - Organiser
গ্লোবাল সাউথের জন্য নিজস্ব এআই সক্ষমতা কেন অপরিহার্য: শুধুমাত্র ভোক্তা নয়, উদ্ভাবক হওয়ার পথেব্রাজিলের মন্ত্রীর মতে, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর নিজেদের এআই সক্ষমতা তৈরি করা উচিত, শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা হয়ে থাকা নয়। এর গুরুত্ব, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় জানুন।## গ্লোবাল সাউথের জন্য নিজস্ব এআই সক্ষমতা কেন অপরিহার্য: শুধুমাত্র ভোক্তা নয়, উদ্ভাবক হওয়ার পথেসাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের এক মন্ত্রীর একটি মন্তব্য প্রযুক্তি দুনিয়ায় এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতি-নির্ধারকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে কেবল উন্নত বিশ্বের তৈরি প্রযুক্তির ভোক্তা হয়ে থাকলে চলবে না, বরং নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এই বক্তব্যটি একটি গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত চিন্তাভাবনার প্রতিফলন, যা গ্লোবাল সাউথের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, বরং মানব সভ্যতার প্রতিটি ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসার ক্ষমতা রাখে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে শিক্ষা, কৃষি থেকে পরিবহন, এমনকি শিল্প উৎপাদন এবং সরকারি পরিষেবা—সব কিছুতেই এআই-এর প্রভাব অনস্বীকার্য। এমতাবস্থায়, যদি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা হয়ে থাকে, তাহলে তারা কেবল অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকবে না, বরং নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লাগামও অন্যের হাতে তুলে দেবে।### কেন গ্লোবাল সাউথের নিজস্ব এআই সক্ষমতা প্রয়োজন?নিজস্ব এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার পেছনে বেশ কিছু জরুরি কারণ রয়েছে, যা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অপরিহার্য:#### ১. অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও প্রবৃদ্ধি:যখন একটি দেশ কেবল প্রযুক্তির ভোক্তা হয়, তখন তাকে পণ্য ও সেবার জন্য বিদেশি মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এটি দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে এবং বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায়। নিজস্ব এআই প্রযুক্তি তৈরি ও বিকাশের মাধ্যমে দেশগুলো নতুন শিল্প, পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হয় এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়। এআই-চালিত শিল্প খাতে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন রপ্তানি আয়ের নতুন উৎস খুলে দিতে পারে।#### ২. ডেটা সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা:এআই-এর মূল ভিত্তি হলো ডেটা। যদি বিদেশি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, তবে স্থানীয় ডেটা বিদেশি সার্ভারগুলোতে সংরক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি ডেটা সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করে। নিজস্ব এআই সিস্টেম তৈরির মাধ্যমে দেশগুলো তাদের ডেটার উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে, যা গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অপরিহার্য।#### ৩. স্থানীয় সমস্যা সমাধানের জন্য কাস্টমাইজড সমাধান:উন্নত বিশ্বের এআই সমাধানগুলো প্রায়শই তাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি এবং সমস্যার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায়, এই সমাধানগুলো সবসময় তাদের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। নিজস্ব এআই সক্ষমতা থাকলে দেশগুলো তাদের স্থানীয় চ্যালেঞ্জ যেমন—কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ বা দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কাস্টমাইজড এবং কার্যকর সমাধান তৈরি করতে পারে।#### ৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মেধা বিকাশ:এআই প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন, বাস্তবায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের প্রয়োজন হয়। নিজস্ব এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার অর্থ হলো স্থানীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত (STEM) শিক্ষায় বিনিয়োগ করা। এটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, মেধা পাচার রোধ করবে এবং স্থানীয় প্রতিভাদের নিজেদের দেশেই কাজ করার সুযোগ দেবে।#### ৫. ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও কৌশলগত গুরুত্ব:প্রযুক্তিগত ক্ষমতা, বিশেষ করে এআই সক্ষমতা, বর্তমানে একটি দেশের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। যেসব দেশ নিজস্ব এআই সক্ষমতা রাখে, তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকে। এটি তাদের আলোচনার ক্ষমতা বাড়ায় এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তির মান নির্ধারণে অবদান রাখতে সক্ষম করে তোলে।### চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের পথগ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য নিজস্ব এআই সক্ষমতা গড়ে তোলা সহজ কাজ নয়। এর পথে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ:* **অবকাঠামোগত ঘাটতি:** উচ্চ-ক্ষমতার কম্পিউটিং শক্তি, ডেটা সেন্টার এবং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগের অভাব একটি বড় বাধা।* **অর্থায়নের অভাব:** এআই গবেষণায় বড় আকারের বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রায়শই কঠিন।* **মেধা পাচার:** মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চতর শিক্ষা ও কাজের সুযোগের সন্ধানে উন্নত দেশগুলোতে পাড়ি জমায়।* **ডেটার অভাব:** স্থানীয় ডেটা সেটের অভাব বা সেগুলোর মান খারাপ হওয়া এআই মডেল তৈরির জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে।* **নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব:** এআই-এর নৈতিক ব্যবহার, ডেটা গোপনীয়তা এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন।এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য একটি সমন্বিত এবং বহু-স্তরীয় কৌশল প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে:* **শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ:** বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এআই সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করা এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করা।* **গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) তহবিল:** সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে এআই গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ করা।* **অবকাঠামো উন্নয়ন:** প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো যেমন—কম্পিউটিং সুবিধা, ডেটা সেন্টার এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট সম্প্রসারণ করা।* **আন্তর্জাতিক সহযোগিতা:** উন্নত দেশগুলোর সাথে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের জন্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।* **নীতিমালা তৈরি:** এআই-এর নৈতিক ব্যবহার, ডেটা সুরক্ষা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার জন্য সুদূরপ্রসারী নীতিমালা তৈরি করা।* **ওপেন সোর্স উদ্যোগ:** ওপেন সোর্স এআই টুলস এবং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার উৎসাহিত করা, যা খরচ কমাতে এবং দ্রুত উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।### বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এআই সক্ষমতাবাংলাদেশের মতো একটি উদীয়মান অর্থনীতির জন্য এআই সক্ষমতা অর্জন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং তৈরি পোশাক শিল্পের মতো প্রধান খাতগুলোতে এআই-এর প্রয়োগ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, খরচ কমাতে এবং পরিষেবা উন্নত করতে সাহায্য করবে। স্মার্ট সিটি প্রকল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সাইবার নিরাপত্তায় এআই-এর ভূমিকা অপরিসীম। সরকার ইতিমধ্যেই ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে এআই একটি প্রধান চালিকাশক্তি হবে।তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ, এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে এআই শিক্ষার বিস্তার। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এআই ও মেশিন লার্নিং নিয়ে আরও বেশি গবেষণা এবং প্রকল্পভিত্তিক কাজকে উৎসাহিত করতে হবে। স্থানীয় স্টার্টআপগুলোকে এআই-ভিত্তিক সমাধান তৈরির জন্য সহায়তা প্রদান করা উচিত।### Key Takeaways (মূল takeaways)* **স্বনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা:** গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা না হয়ে নিজস্ব এআই সক্ষমতা তৈরি করা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য।* **স্থানীয় সমাধান:** স্থানীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য কাস্টমাইজড এআই সমাধান তৈরি করা সম্ভব হবে।* **অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি:** নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।* **ডেটা সুরক্ষা:** ডেটা সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হবে।* **মেধা বিকাশ:** স্থানীয় মেধার বিকাশ ও মেধা পাচার রোধে সহায়তা করবে।* **সমন্বিত প্রচেষ্টা:** এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন।### উপসংহারব্রাজিলের মন্ত্রীর এই বক্তব্যটি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য একটি সময়োপযোগী আহ্বান। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত কৌশল নয়, বরং একটি জাতীয় উন্নয়ন কৌশল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অগ্রভাগে নিজেদের স্থান করে নিতে হলে, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে অবশ্যই নিজস্ব এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বনির্ভর, উন্নত এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গড়ার ভিত্তি স্থাপন করবে। এই পথে চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন